মঙ্গলবার , জানুয়ারী ১৯ ২০২১
সদ্য সংবাদ

মাস্ক পরিধান করোনায় জাপানের মৃৃত্যু কমিয়েছে: জাপানি বিশেষজ্ঞ প্যানেল

কোভিড মহামারী সম্পর্কে জাপান সরকারের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল বলেছেন যে, মাস্ক পরার মাধমে বিশ্বের অনেক অঞ্চলের চেয়ে জাপানে মৃত্যুর সংখ্যা কমানো সম্ভব হয়েছে।

বুধবার অবধি জাপান এই সংক্রমণের ১৬,০০০ এরও বেশি সংক্রমণ এবং ভাইরাস থেকে ৮৫০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, গ্রæপ সেভেনের সাতটি বড় অর্থনীতির মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম সংখ্যক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে জাপানে। তবে এটা মনে রাখতে রাখে হবে যে সংকটটি শেষ হয়ে যায়নি। নতুন সংক্রমন খুব বেশি দূরে নেই। অতি সম্প্রতি কিতাক্যুশুর একটি নতুন সংক্রমণের ঘটনা তদন্তের জন্য সরকারকে একটি দল প্রেরণ করতে হওয়ায় যথেষ্ট উদ্বেগের জন্ম দিযেছে এবং দ্বিতীয় সংক্রমণের শংকা সৃষ্টি করেছে।

বিশেষজ্ঞ প্যানেল কর্তৃক প্রদত্ত লিখিত প্রতিক্রিয়া অনুসারে, সংক্রমণের আরো মারাত্মক দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধ করার জন আরও বেশি দ্রুত ক্লাস্টারগুলি নিয়ন্ত্রণ করে ফেলার কথা বলঅ হয়েছে। এর অর্থ যুগপৎ ভাবে পিসিআর এবং অ্যান্টিজেন পরীক্ষা সম্পন্ন করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি এড়াতে লোকদের প্রতি আহ্বান জানানো।

প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে সোমবার জাতীয় জরুরি অবস্থা শেষ করেছেন, কারণ করোনার সংক্রমণ আপাতত ঝুঁকিমুক্ত অবস্থায় চলে এসেছে। তিনি আরও একটি বড় প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধে সতর্কতা অবলম্বন করে ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

জাপান কোভিড-১৯ তুলনামূলকভাবে ভালভাবে মোকাবেলা করেছে বলে মনে করা হলেও, এর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা প্রায় ধংসের কাছে এসে পরেছিল। বিশেষজ্ঞ প্যানেলের গণমাধ্যমের সাথে যোগাযোগ করার দায়িত্বে থাকা ওয়াাসেদা বিশ্ববিদ্যালয়র সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মিকিহিতোর মতে জাপানে লকডাউন বৈধভাবে কার্যকর করার মতো কোনো আইন ছিলনা, আর সামাজিক দূরত্ব বহাল রাখতে গিয়ে মারাত্মক অর্থনৈতিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ভাইস চেয়ারম্যান শিগেরু ওমি বলেছেন যে জাপানিদের মধ্যে স্বভাবগত স্বাস্থ্যকর সচেতনতা প্রকোপটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করেছিল। স্বাস্থ্য সচেতনতার দ্বারা তিনি কী বোঝাতে চেয়েছিলেন এবং এটি অন্যান্য দেশের থেকে কীভাবে আলাদা?
জাপানের জনগনের হাত ধোয়ার অভ্যাস থেকে শুরু করে সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে কঠিন সচেতনতা রয়েছে। এবং ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার কারণে জনগনের সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান রয়েছে ।

আরো একটি সামাজিক কারণ হ’ল জাপানি লোকেরা প্রতিদিনের মতো মাস্ক পরতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। অনেক জাপানির পরাগজনিত অ্যালার্জি থাকে, তাই তারা বছরের শুরু থেকে বসন্ত অবধি সিডার পরাগের মৌসুমে এলার্জি থেকে বাঁচার জন্য মাস্ক পরে থকে। এ ছাড়া এই মাস্ক তাদের ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে রক্ষা করে।।
জাপানে ক্লাস্টার নজরদারি যে কোনও উচ্চ ঝুঁকির অবস্থা পরিমাপ এবং স্থান সমূহ চিহ্নিত করতে সহায়তা করেছে। মাস্ক পরা, হাইজেনিক হাত, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং উচ্চস্বরে কথা বলা এড়ানো সংক্রমণ রোধে কার্যকর।

জাপানে আরো একটি দ্বিতীয় ধাক্কার শক্ত সম্ভাবনা রয়েছে, সে ক্ষেত্রে আগের চেয়ে দ্রুত ক্লাস্টারগুলি শনাক্ত করারপরেয়াজন হবে।। লক্ষণগুলি গুরুতর হওয়ার আগেই কেসগুলি খুঁজে পাওয়ার জন্য পিসিআর টেস্টিংয়ের পাশাপাশি অ্যান্টিজেন টেস্টিং সক্ষমতা তৈরি করার জন্য বিশেষজ্ঞ টিম সুপারিশ করেছে।
প্রথম ধাক্কায় জাপানের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলএবং কেবলমাত্র পুরো জাপানের জনগণের সচেতনতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। । যদিও জাপানকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের মতো লকডাউন পর্যন্ত যেতে হয়নি। এর কারন হচ্ছে জাপানি জনগনের দুর্দান্ত সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ত্যাগ। রোগের বিস্তার প্রতিরোধ এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্রিয়কলাপের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা খুব কঠিন কাজ।

লকডাউন চাপিয়ে দেওয়ার কোন আইনী উপায় জাপানের কাছে ছিল না, তবে মডেলিংয়ে দেখা গেছে যে সামাজিক যোগাযোগ ৮০ শতাংশ হ্রাস করে সংক্রমণ হ্রাস করা যায় এবং অনেক জাপানী নাগরিক এর জন্য সহযোগিতা করেছে। অবশ্যই, বিশেষজ্ঞদের এমন ধারনা ছিলনা যে প্রত্যেকে সামাজিক যোগাযোগের নিয়ম মেনে চলবে, তবে জাপানীরা তা মেনেছে।

তবে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে এই রোগটি ছড়িয়ে গেলে সকল নাগরিককে পরীক্ষা করার ক্ষমতা ছিলনা। পর্যাপ্ত পিসিআর পরীক্ষার ক্ষমতা ছিলনা।

অন্যান্য দেশের তুলনায় জাপানে পরীক্ষার সংখ্যা অনেক কম ছিল, তবে বাস্তবে মৃত্যুর অনুপাতে পরীক্ষার সংখ্যা জাপানে বেশি ছিল। এক পর্যায়ে পরীক্ষার সাথে পজিটিভ ফল দেয় এমন অনুপাত ছিল ৩০ শতাংশেরও বেশি ছিল এবং এখন ১ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। এটি সমগ্র দেশের জন্য এক শতাংশের নিচে, যা অন্যান্য দেশের তুলনায় কম, সুতরাং বিশেষজ্ঞ প্যানেল মনে করে পরীক্ষার ব্যবস্থাটি যুক্তিসঙ্গত ছিল।

বিশেষজ্ঞগন এখনও অ্যান্টিবডি পরীক্ষার যথাযথতা, বিশেষত সংবেদনশীলতা এবং নির্দিষ্টতার দিক নিয়ে নিশ্চিত নয়। যদিও জাপান এখন পর্যন্ত সংক্রমণের বিস্তারের ব্যাখ্যায় খুব বেশী ভুল করেনি বলে বিশেষজ্ঞ প্যানেল মনে করে। তাই বিশেষজ্ঞ প্যানেল বেশী বেশী এন্টিবডি পরীক্ষা করার জন্য পরামর্শ প্রদান করেছে।
জাপান টাইমস এ প্রকাশিত  ইসাবেল রেনলড এর প্রতিবেদন থেকে ।

সম্পর্কিত ডেস্ক রিপোট

এছাড়াও চেক করুন

অক্সফোর্ড / অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোভিড ভ্যাকসিনের 'ডোজ ত্রুটি' ব্যাখ্যা করা হয়েছে

অক্সফোর্ড / অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোভিড ভ্যাকসিনের ‘ডোজ ত্রুটি’ ব্যাখ্যা করা হয়েছে

অক্সফোর্ড / অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোভিড ভ্যাকসিনের ‘ডোজ ত্রুটি’ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সোমবার, বিশ্ব শুনেছিল যে কীভাবে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।