তথ্য সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক সাপ্তাহিক নির্বাচিত সূচক ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬
বহিঃখাতের চিত্রঃ
বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ: ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০.০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা জুন ২০২৫-এর তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
রেমিট্যান্স প্রবাহ: জানুয়ারি ২০২৬-এ প্রবাসী আয় এসেছে ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। জুলাই–জানুয়ারি FY26-এ মোট রেমিট্যান্স ১৯.৪৩ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ২১.৭৫%।
রপ্তানি বনাম আমদানি: ডিসেম্বর ২০২৫-এ রপ্তানি কমেছে ৭.৩৩%, অন্যদিকে আমদানি প্রায় স্থিতিশীল।
চলতি হিসাব ও বাণিজ্যঃ
চলতি হিসাব ঘাটতি: জুলাই–ডিসেম্বর FY26-এ ঘাটতি দাঁড়িয়েছে –৩৪২.৬ মিলিয়ন ডলার, যা FY25-এর তুলনায় কিছুটা কম।
রেমিট্যান্স প্রবাহ ঘাটতি কমাতে সহায়ক হলেও দুর্বল রপ্তানি চাপ সৃষ্টি করছে।
অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিঃ
মুদ্রাস্ফীতি: এপ্রিল ২০২৫-এ যেখানে গড় মুদ্রাস্ফীতি ছিল ১০.২১%, জানুয়ারি ২০২৬-এ তা নেমে এসেছে ৮.৬৬%।
কর রাজস্ব (NBR):জুলাই–ডিসেম্বর FY26-এ কর আদায় হয়েছে ১৮৫,২২৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪.১৯% বেশি।
শেয়ারবাজার: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূচক বেড়েছে ১২.৯৭%, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির ইঙ্গিত।
ব্যাংকিং খাতের সংকটঃ
অবলোপিত ঋণ (Classified Loan): সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ মোট ঋণের ৩৫.৭৩% অবলোপিত, যা ব্যাংকিং খাতের জন্য গুরুতর ঝুঁকি।
নিট অবলোপিত ঋণ দাঁড়িয়েছে ২৬.৪০%, যা আর্থিক স্থিতিশীলতায় বড় হুমকি।
ঋণ ও প্রবৃদ্ধিঃ
বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি: ডিসেম্বর ২০২৫-এ মাত্র ৬.১%, অন্যদিকে সরকারি ঋণ বেড়েছে ৩২.১৯%।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি: FY25-এ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩.৯৭%, যা FY24-এর ৪.২২% থেকে কম।
সার্বিক মূল্যায়নঃ
বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২৬ সালের শুরুতে রিজার্ভ পুনরুদ্ধার, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসের মাধ্যমে কিছুটা স্থিতিশীলতা অর্জন করেছে। তবে রপ্তানি দুর্বলতা, ব্যাংকিং খাতের ঋণ সংকট এবং নিম্ন প্রবৃদ্ধি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
উপসংহার: বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে মিশ্র চিত্র প্রদর্শন করছে—একদিকে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভের ইতিবাচক প্রবাহ, অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতের সংকট ও রপ্তানি দুর্বলতা। নীতিনির্ধারকদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় কাজ হলো ব্যাংকিং খাত সংস্কার, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা।