এআই: চাকরির ভয় আর সিইওদের দ্বিধা


 

 


এআই: চাকরির ভয় আর সিইওদের দ্বিধা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আজ শুধু প্রযুক্তির আলোচনার বিষয় নয়, বরং মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হয়ে উঠেছে: চাকরি কি নিরাপদ থাকবে?

কর্মীদের চোখে এআই

অফিসে নতুনদের জন্য এআই যেন এক অদৃশ্য প্রতিদ্বন্দ্বী। ফিনটেক কোম্পানি Block সম্প্রতি কর্মীসংখ্যা ৪০% কমিয়েছে। যুক্তি—এআই টুলস ব্যবহার করে দক্ষতা বেড়েছে। কিন্তু কর্মীদের কাছে এটি দক্ষতার গল্প নয়, বরং জীবিকার সংকট।

সিইওরাও ভাবনায়

অদ্ভুতভাবে, এই ভয় শুধু সাধারণ কর্মীদের নয়। শীর্ষ নির্বাহীরাও ভাবছেন, তাদের জায়গা কি একদিন এআই নিয়ে নেবে?

  • উবার সিইও দারা খোসরোশাহি মজা করে বলেছেন, তার কর্মীরা “দারা এআই” বানিয়েছে, যাকে তারা আগে উপস্থাপনা দেয়। তিনি হেসে যোগ করেছেন, যদি একদিন সেই এআই বোর্ডে হাজির হয়, তবে হয়তো তিনি নিজেও প্রতিস্থাপিত হবেন।
  • ওপেনএআই সিইও স্যাম অল্টম্যান আরও খোলামেলা। তিনি বিশ্বাস করেন, ভবিষ্যতে এআই সিইওরা মানুষের চেয়ে অনেক ভালোভাবে কোম্পানি চালাতে পারবে।
  • অ্যালফাবেট সিইও সুন্দর পিচাই মনে করেন, সিইওর কাজ একদিন এআই-এর জন্য সবচেয়ে সহজ কাজ হয়ে যাবে।
  • আর ক্লার্না সিইও সেবাস্টিয়ান সিয়েমিয়াতকভস্কি স্বীকার করেছেন, এআই তার কাজও করতে পারে। তবে তিনি এতে আনন্দ পাননি, বরং বিষণ্ণ হয়েছেন।

জনমত বনাম নেতৃত্ব

সিইওরা এআইকে ভবিষ্যতের অপরিহার্য শক্তি হিসেবে তুলে ধরছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ এআইকে চাকরি হারানোর হুমকি হিসেবে দেখছেন। ২০২৫ সালের পিউ রিসার্চ জরিপে দেখা যায়—

  • মাত্র ১৭% আমেরিকান মনে করেন এআই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
  • প্রায় ৪৩% মানুষ মনে করেন তারা ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

গল্পের ফারাক

এখানে একটি বড় ফারাক স্পষ্ট। সিইওরা এআইকে গ্রহণযোগ্য করতে চাইছেন, কখনো কখনো নিজেদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। আর কর্মীরা এআইকে দেখছেন চাকরি হারানোর বাস্তব হুমকি হিসেবে।

এটি কেবল প্রযুক্তির পরিবর্তন নয়, বরং বিশ্বাসের সংকটও বটে। কর্মীরা মনে করছেন, এআই গ্রহণের নামে তাদের চাকরি কেটে দেওয়া হচ্ছে। আর সিইওরা একই সময়ে এআইকে “নিজেদের প্রতিস্থাপক” হিসেবে উপস্থাপন করে হয়তো কর্মীদের বোঝাতে চাইছেন যে পরিবর্তন অনিবার্য।

উপসংহার

এআই নিয়ে আলোচনা এখন আর শুধু প্রযুক্তি নয়, বরং মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে। কর্মীদের ক্ষোভ আর সিইওদের দ্বিধা—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় খুঁজে পাওয়া আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


 

 

Author


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *